এসএসসিতে ২বার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর শাহরিয়ার

৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন তাইমুর শাহরিয়ার। তবে তাইমুরের এই দীর্ঘপথ এটা পাড়ি দেওয়ার গল্পটি সহজ ছিল না। ফেল করার পর যেখানে অনেকেই হতাশ হয়ে যায় সেখানে এসএসসিতে দুবার অকৃতকার্য হয়েও হাল ছাড়েননি তাইমুর।

স্কুলের ‘ফার্স্ট বয়’ হওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষায় রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন তিনি। অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল বিপর্যয় শুনে ঘাবড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন সবাই হতবাক। তাইমুরের ভাষায়, ‘এটা ছিল অবিশ্বাস্য। সেই অনুভূতিটাও কখনও বলে বোঝানো সম্ভব না।’

সবার সান্ত্বনা ও সাহসে পরবর্তী বছর পরীক্ষা দিলেন তাইমুর। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আবারও রসায়নে ফেল। জীবনের এমন করুণ হতাশার মুহূর্তে বাবার কয়েকটি কথাকে পুঁজি করেই অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে সামনে অগ্রসর হয়েছিলেন তিনি।

বিকাশ এপ ডাউনলোড করে লগ ইনে পাবেন ১০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট বোনাস, সাথে ৫০ টাকা বোনাস একদম ফ্রী - Bkash App Download Link শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে DailyResultBD এর ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

তাইমুরের বাবা বলেছিলেন, ‘জ্বলার মতো আগুন থাকলে, একদিন তা জ্বলে উঠবেই। দেরিতে হলেও। প্রতিভা থাকলে, তা একদিন প্রকাশ পাবেই। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই।’

অবশেষে ২০০৩ সালে বরগুনার আমতলী এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৭৫ নিয়ে পাস করলেন। এরপর আমতলী ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অবশেষে ২০০৯ সালে অনার্স এবং ২০১০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।এসএসসিতে ২বার ফেল করেও বিসিএস ক্যাডার তাইমুর শাহরিয়ার

এরপর থেকে পুরোদমে চলতে থাকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ৩১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও পরবর্তী ধাপ অতিক্রম করতে পারেননি। ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। অবশেষে ৩৩তম বিসিএসে আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের ফলে গৌরবের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন দুবার ফেল করা ছাত্রটি। পছন্দ তালিকার প্রথমে পুলিশ ক্যাডার এবং দ্বিতীয়টি প্রশাসন ক্যাডারে থাকলেও তাইমুরের ভাগ্যে ছিল শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরবময় স্থান।

শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার পর তাইমুর শাহরিয়ারের প্রথম কর্মস্থল ছিল বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে আড়াই বছর চাকরি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ বদলিভিত্তিক পদায়নে ঢাকার সরকারি কবি নজরুল কলেজে আসেন। সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি হয়তো সাময়িকভাবে মচকে গিয়েছিলাম কিন্তু ভেঙে পড়িনি। বাকিটা আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমের ফল।
বাংলা ট্রিবিউন

Related Content
DailyResultBD এর শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel