ইঞ্জিনিয়ারদের অটোপাস দেওয়া হবে না

ইঞ্জিনিয়ারদের অটোপাস দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ তৈরি হওয়া নতুন সংগঠন “বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ”–এর দাবি করার আগেই সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তারা এখন কোনও ভিন্ন উদ্দেশ্যে আন্দোলন করছে। ইঞ্জিনিয়ারদের অটোপাস দেওয়া হবে না।’ রবিবার (১৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকে পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, প্রতিটি বিষয়ের মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে ৫০ নম্বরের। আর ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হবে দেড় ঘণ্টায়।

এই সিদ্ধান্তের পরও রবিবার (১৭ জানুয়ারি) রংপুর ও বরিশালে সড়ক অবরোধ করা হয় ‘বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ’-এর ব্যানারে।

বিকাশ এপ ডাউনলোড করে লগ ইনে পাবেন ১০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট বোনাস, সাথে ৫০ টাকা বোনাস একদম ফ্রী - Bkash App Download Link শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে DailyResultBD এর ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

আন্দোলন বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিলেবাস কমিয়ে দেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও আন্দোলন করা হচ্ছে ভিন্ন উদ্দেশে।’

সচিব বলেন, ‘তারা চার দফা দাবির প্রথম দাবিতে বলছে—তাদের এক বছর লস পুষিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর ছয় মাসের সেমিস্টার চার মাসে করে দুই বছর করলে এক বছরের লস এডজাস্ট হবে।’

‘দ্বিতীয় দাবি—যেসব পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে সেগুলো শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলছে তারা। আমরা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ পর্বের তাত্ত্বিক পরীক্ষার আগেই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করেছি। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা দিতে পারবে। অর্থাৎ যেখানে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হতো সেখানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে যে গ্রুপ ছিল সেগুলোও ফ্লেক্সিবল করে দিয়েছি। যেকোনও গ্রুপ থেকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তারা। এ ক্ষেত্রে অটোপাস দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ যে রিকয়ার কম্পিটেন্সি প্রয়োজন হবে তা থাকতে হবে। এ জন্য আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি রিডিজাইন করেছি।

‘তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলছে—অতিরিক্ত ফি গ্রহণ না করা এবং প্রাইভেট পলিটেকনিকে সেমিস্টার ফি মওকুফ। আমরা ইতোমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। সেখানে টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ছাড়া সরকারি পলিটেকনিকে অন্য ফি মওকুফ করেছি। বেসরকারি পলিটেকিনিকগুলোকে অনুরোধ করেছি, তারাও এই ধরনের ফি (টিউশন ও পরীক্ষার ফি ছাড়া অন্য ফি) মওকুফ করেছে। আপনারা জোনেন প্রাইভেট পলিটেকিনিকগুলোতে শিক্ষকের বেতন, ঘরভাড়া ল্যাবরেটরির জন্য খরচ রয়েছে। তারপরও তারা রজি হয়েছে। তারা বলেছে, ফিসের কারণে যেন কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। তারা অতিরিক্ত ফি দাবি করছে না।

‘চতুর্থ দাবি—প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা। আমরা জানি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা পাস করার পর ভর্তি হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নড়াইল ও খাগড়াছড়িতে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে। সেখানে ৫০ শতাংশ ডিপ্লোমা এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি ভর্তি হতে পারবে। এটা বুয়েট আর আমরা করবো। এর ফলে প্রচুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।’

সচিব বলেন, ‘এই দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, মোটেই সমীচীন নয়। আমরা বিশ্বসি করি, তারা ঘরে ফিরে আসবে। যথা নিয়মে ফেক্সিবল পদ্ধতিতে শর্ট সিলেবাসে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে। যদি তারা ফিরে না আসে, তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে শিক্ষার বাইরেও তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। অস্থিতিশীলতা, বিভ্রান্তি-এগুলো সৃষ্টির অপচেষ্টা রয়েছে। এটা সরকার যথা নিয়মে মোকাবিলা করবে। আমি মনে করি, আমাদের সন্তানতুল্য আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা বিষয়টি উপলদ্ধি করবে।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন তৈরি হওয়া বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ- এই ব্যানারে চার দফ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। রবিবার (১৭ জানুয়ারি) রংপুর ও বরিশালে সড়ক অবরোধ করা হয় সংগঠনটির ব্যানারে।

Related Content
DailyResultBD এর শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel