টাকার জন্য স্বপ্ন ভেঙে গেল চা বিক্রেতা এক ডিগ্রী শিক্ষার্থীর

টাকার জন্য কলেজ থেকে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড না দেয়ায় ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষা দিতে পারেননি হতদরিদ্র পরিবারের চা বিক্রেতা এক শিক্ষার্থী।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির প্রথম বর্ষ পরীক্ষার্থী আবদুস সাত্তার বুধবারের ভূগোল বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি।

টাকার জন্য স্বপ্ন ভেঙে গেল চা বিক্রেতা এক ডিগ্রী শিক্ষার্থীর
টাকার জন্য স্বপ্ন ভেঙে গেল চা বিক্রেতা এক ডিগ্রী শিক্ষার্থীর

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কলেজের চলমান এইচএসসির বার্ষিক পরীক্ষা বয়কট করে আন্দোলন করেন প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে DailyResultBD এর ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel নতুন বিকাশ অ্যাপ থেকে নিজের একাউন্ট খুলুন মিনিটেই, শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে। কোথাও যেতে হবে না! আর অ্যাপ থেকে একাউন্ট খুলে প্রথম লগ ইনে পাবেন ১০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট বোনাস!সাথে আছে আরো অ্যাপ অফার: - প্রথম বার ২৫ টাকা রিচার্জে ৫০ টাকা ইনস্ট্যান্ট বোনাস .সর্বমোট ১৫০ টাকা বোনাস পাবেন একজন বিকাশ গ্রাহক। এছাড়া যারা একাউন্ট খুলেছেন তারাও বিকাশ এপ ডাউনলোড করে প্রথম প্রথম লগ ইনে পাবেন ১০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট বোনাস! Bkash App Download Link

ইউএনও এর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার দ্বিতীয় দিনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলেও তার শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর পিছিয়ে যাওয়ায় তার লেখাপড়ার স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে।

কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুস সাত্তার চা বিক্রি করে তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফরম ফিলাপের জন্য এক হাজার ৮০০ টাকা জমা দেয়। পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলেজে অ্যাডমিট কার্ড নিতে গেলে ওই কলেজের শিক্ষক মুঞ্জুরুল আলম বকেয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।

বুধবার সকালে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার যথারীতি তার পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের জন্য কলেজের বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে অনুরোধ ও ধরনা দিতে থাকে। পরে কলেজ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ারের নির্দেশ টাকা ছাড়া কোনো অ্যাডমিট কার্ড দেয়া যাবে না।

ডিগ্রি পরীক্ষার্থী আবদুস সাত্তার বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে তার মা মারা গেছে। তারপর থেকেই স্থানীয় জনৈক সজলের চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে সে নিজের ও তার ছোট বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগান এবং সংসার চালান। আর অনেক কষ্ট করে চা বিক্রির টাকা জোগার করে ফরম ফিলাপের এক হাজার ৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু বাকি সামান্য টাকার জন্য তাকে অ্যাডমিট কার্ড দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, অ্যাডমিট কার্ডের জন্য শিক্ষকদের অনেক অনুরোধও করেছেন এবং বাকি টাকা চা বিক্রি করে দিতেও চেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষকদের একই কথা টাকা ছাড়া অ্যাডমিট দিতে পারব না। এখন তার কষ্টের জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেল।

ওই কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, একটি গরিব পরিবারের ছেলে অনেক কষ্ট করে তার সংসার এবং লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সামান্য কিছু টাকার জন্য আর কিছু শিক্ষকদের দাম্ভিকতায় আজ শিক্ষার্থী আবদুস সাত্তার এর জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেল। তিনি এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

শিক্ষক মুঞ্জুরুল আলম বলেন, আমরা পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার স্যারের নির্দেশ পালন করেছি। আর ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ওই শিক্ষার্থী কলেজে অনিয়মিত ছিল।

DailyResultBD এর শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ঘটনা জানার পর ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আর এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Related Content