শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় কম, মানে পিছিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় কম, মানে পিছিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক ব্যয় মাত্র ৭৪১ টাকা। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীপ্রতি এ ব্যয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজ ও অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ব্যয়ে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীপ্রতি যা ব্যয়, সে তুলনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় অনেক কম। এ কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে বলছে, অথচ উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে জাতীয় ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে ইউজিসি।

শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় কম, মানে পিছিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় অপেক্ষা বিজ্ঞান, চিকিত্সা ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গড় ব্যয় সব সময়ই বেশি। জনবল বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী প্রতি ব্যয় বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীভুক্ত ও অঙ্গীভূত ২ হাজার ২৬৮টি কলেজে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, ১ হাজার ৫০৬টি স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এসব শিক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু ব্যয় ৩ হাজার ৪৭৩ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০২ টাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৮ হাজার ৯৬২ টাকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪২ টাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭০৬ টাকা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪ হাজার ৯২৪ টাকা, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ১১ হাজার ৫৯২ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭ হাজার ৮৯৩ জন আর কর্মচারী আছেন ২ হাজারের বেশি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৬৯২ শিক্ষার্থী আছেন, আর কর্মচারী আছেন ৭৯৫ জন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী, আর কর্মচারী রয়েছেন ৩৬৫ জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থী ৩০০ জন হলেও কর্মচারী রয়েছেন ১১৫ জন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক, ১৪ হাজার ১৪২ শিক্ষার্থীর জন্য কর্মচারী আছেন ৬৩৪ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ হাজার ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী আছেন, আর কর্মচারী রয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৩ জন। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ১ জন শিক্ষক। জনবল বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ব্যয় বাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

আমিরুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষক জানান, কলেজের প্রতি সরকার এক প্রকার বৈষম্য করছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণায় যেভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন কলেজের শিক্ষকদের সে সুযোগ নেই। এছাড়া শিক্ষার্থীরাও বৈষম্যের শিকার। ভালো মানের গবেষণাগার নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় গবেষণার পেছনে সরকারের তেমন ব্যয় নেই বললেই চলে। কলেজের শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় বরাদ্দ ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

Related Content