জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনের ইতিহাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনের ইতিহাস জেনে নিন আজকের আর্টিকেল থেকে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমার্বতন ১৭ই জানুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির আসন অলঙ্কৃৃত এবং স্নাতকদের ডিগ্রি প্রদান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় চ্যান্সেলর জনাব মোঃ আবদুল হামিদ।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর  সমাবর্তনে মোট ৪ হাজার ৯ শত ৩৪ জন গ্র্যাজুয়েটস নিবন্ধন করেন, যাদের মধ্যে মেয়ে ৩ হাজার ১ শত ৩৭ জন এবং ছেলে ১ হাজার ৭ শত ৯৫ জন অর্থাৎ মেয়েদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন।
১ম সমাবর্তনে যারা অংশ গ্রহণ করেন
১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের গ্র্যাজুয়েটস যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সফলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তাদেরকে এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ এর জন্য রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করা হয়।

প্রতিষ্ঠার প্রায় আড়াই দশক পর গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দিন পরে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়াই শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি ছিল তেমনি নানা অব্যবস্থাপনা আর ভোগান্তির কারণে অনেককে মন খারাপ করে থাকতে দেখা গেছে।

শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনের ইতিহাস


ঢোল পিটিয়ে সমাবর্তনের আয়োজন করা হলেও গ্র্যাজুয়েটদের সার্টিফিকেট ছাড়াই ঘরে ফিরতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বলেন, সমাবর্তনে অংশগ্রহণে তিন হাজার টাকা এন্ট্রি ফি নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাউন ফেরত নিতে ভুল না করলেও সার্টিফিকেট ছাড়াই বাসায় ফিরেছেন সবাই।
অনেকের মতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে তারা ভিষণ খুশী। কিছু অব্যবস্থাপনা থাকলেও এটা ছিল তাদের জীবনের একটা বড় অর্জন। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, সমাবর্তনে সার্টিফিকেট দিতে হবে এমন নিয়ম নেই। সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে আনতে হবে।


বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে ভাষণকালে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিপূরক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা এখন দেশের উন্নত জনশক্তি এবং আশা করি আপনারা আপনাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করবেন। আপনাদের বিবেক দিয়ে কাজ করবেন। অবশ্যই দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার্থে অগ্রাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখবেন।


তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। তাই কষ্টার্জিত গণতন্ত্র যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে শিক্ষার মান বাড়ানো পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সেশনজট মুক্ত রাখা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মক- সম্প্রসারণে পদক্ষপের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।

একইসঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের মতো এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বক্তৃতা করেন।

Related Content