আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা একমাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মাস খানেকের মধ্যে বেসরকারি আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা একমাসের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে। তিনি বলেন, গত বছর অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফরমে এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করা হয়। আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠান সমূহের চারটি সূচকের ওপর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কম্পিউটারের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জানতে চাইলে এ সংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানসমুহের দেয়া তথ্য উপাত্ত যাচাই করে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে, সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার (১০ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আশা করছি, মাসখানেকের মধ্যে এমপিওভুক্তির ঘোষণা করতে পারব।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিভুক্তির দাবিতে অনেক দিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করেছেন। তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা অনেক আগেই এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করেছি।’আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা একমাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে আমরা তা যাচাই-বাছাই করব। তাদের দেয়া তথ্য ঠিক থাকলে আগামী মাসে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হবে। নতুবা যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অপরটি পেলে এ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ কারণে সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এ কারণটা যদি আর্থিক হয় তবে প্রথম পর্যায়ে নতুন এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৫ শতাংশ এমপিও সুবিধা দেয়া হতে পারে। যদি তা না হয়, তবে শতভাগ এমপিও সুবিধা প্রদান করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সম্প্রতি ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বেশ কয়েকদিন রাস্তায় বসে আন্দোলন করেন। এরপর আমি তাদের নেতাদের সঙ্গে বসে তাদের সমস্যা জেনেছি। তারা অনেক কম বেতন পান-বিষয়টি অনেক মানবেতর।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অনেক আনাচে-কানাচে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেও অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি বন্ধ করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে স্বতন্ত্র মাদরাসাকে আনা যায় কিনা তা বিবেচনা করা হবে। সরকার চাইলে নতুন প্রতিষ্ঠান হবে, তবে ব্যক্তির অধীনে এমন যত্রতন্ত্র যাতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠে তা নিয়ে কাজ করা হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের কোন পদ্ধতিতে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়-তা নিয়ে আমরা দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

Related Content