আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট হবেন যেভাবে

আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট হবেন যেভাবে । আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক অথবা আপনি যদি হন একজন ব্যারিস্টার, তাহলে আইনজীবী হতে হলে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

পরীক্ষার চার ধাপ
পর্ব-১: প্রথমে ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন এ মর্মে এমন একজন সিনিয়রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে হবে। তবে সিনিয়রের কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত ওকালতি করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবে একটি অ্যাফিডেভিট। আর থাকবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে নির্ধারিত ফির ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ। আইনে স্নাতক পরীক্ষা বা অন্য কোনো ডিগ্রিপ্রাপ্তির পরীক্ষা প্রদানের পরপরই অনতিবিলম্বে উল্লিখিত চুক্তিপত্র, অ্যাফিডেভিট ও ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি বরাবর পাঠিয়ে দিতে হবে।

পর্ব-২: পর্ব-১-এ পাঠানো কাগজপত্র বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বার কাউন্সিল আপনার বরাবর একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু করবে। সেখানে আপনাকে একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে। ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরবর্তী লিখিত পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে আপনাকে ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু কাগজপত্র সংযুক্তিসাপেক্ষে আবেদনপত্র প্রেরণের আহ্বান জানানো হবে।

শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে পরীক্ষার নির্ধারিত ফি বাবদ নির্ধারিত টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ব্যাংকে বার কাউন্সিলের অ্যাকাউন্টে নগদ জমা দেওয়ার রসিদ। সিনিয়রের কাছ থেকে শিক্ষানবিশি সমাপনসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র। পূর্ণ বিবরণসহ পরীক্ষার্থী ও তার সিনিয়রের স্বাক্ষর, সিলমোহর ও তারিখযুক্ত কমপক্ষে পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার তালিকা, যার শুনানিকালে পরীক্ষার্থী নিজে তাঁর সিনিয়রের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এগুলোর সঙ্গে থাকতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ, চারিত্রিক সনদ ও ছবি ।

লিখিত পরীক্ষা: পর্ব-২ সফলভাবে সমাপ্ত হলে বার কাউন্সিল থেকে আপনার ঠিকানায় ডাকযোগে চলে যাবে লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে আপনাকে। প্রতিবছর এ পরীক্ষা দুইবার অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো ক্ষেত্রে বছরে একবারও এ পরীক্ষা হয়।
মৌখিক পরীক্ষা: পঠিত সব আইনি বিষয়ের ওপর ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় একই সঙ্গে পর্ব-২-এ উল্লিখিত ১০ মামলার বিষয়ে কেস ডায়েরি দাখিল করতে হবে। তবে ব্যারিস্টারদের কেস ডায়েরি দাখিলের প্রয়োজন পড়ে না।

আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট হবেন যেভাবে

আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট হবেন যেভাবে

নিম্ন আদালতে প্র্যাকটিস
মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি আইনজীবী (নিম্ন আদালতের) হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন। অর্থাৎ আপনি হয়ে গেলেন অ্যাডভোকেট। এ ক্ষেত্রে আপনি পেয়ে যাবেন বার কাউন্সিলের সদস্য পদ। তবে শুধু সনদ পেলেই হবে না, আপনি যে বারে প্র্যাকটিস করতে চান সেই বারের সদস্য পদও নিতে হবে।

হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস
নিম্ন আদালতে দুই বছর আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে সনদ নেওয়ার যোগ্যতা হয়। তবে হাইকোর্টে ১০ বছরের বেশি প্র্যাকটিস করছেন এমন এক সিনিয়রের সঙ্গে শিক্ষানবিশি চুক্তি করতে হয়। আর যদি বার অ্যাট-ল ডিগ্রি বা এলএলএম পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকে, তখন বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলে আপনি পরীক্ষা দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হলো, সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের অধীনে আপনাকে এক বছর প্র্যাকটিস করতে হবে এবং এ মর্মে আপনার সিনিয়রের একটা প্রত্যয়নপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস
একজন আইনজীবীর হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের বয়স পাঁচ বছর হলে এবং হাইকোর্টের বিচারপতিরা যদি তাঁকে এই মর্মে স্বীকৃতি দেন যে তিনি আপিল বিভাগে ওকালতি করার জন্য সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তি, তবে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালনসাপেক্ষে এনরোলমেন্ট কমিটি তাঁকে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে কাউকে বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করলে এ আনুষ্ঠানিকতা পালন ছাড়াও প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকেরা তাঁকে আপিল বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি দিতে পারেন।

আইন পেশার মানুষকে ‘সমাজ কৌশলী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, সমাজের নানা বিষয়ে অসংগতি ও বৈষম্য দূর করতে একজন আইন পেশাজীবীকে রাখতে হয় অগ্রগামী ভূমিকা। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আইন পেশা স্বীকৃত হয়ে আসছে সম্মান ও ঐতিহ্যের পেশা হিসেবে। আধুনিক বিশ্বের সূচনাপর্বে মা-বাবারা চাইতেন, সন্তান বড় হয়ে উকিল-ব্যারিস্টার হবে। আগে এমন কোনো অভিজাত পরিবার পাওয়া যেত না, যেখানে অন্তত একজন ব্যারিস্টার নেই। এরই ধারাবাহিকতায় আইন নিয়ে পড়াশোনার প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েই চলছে দিন দিন।

এল এল বি ভর্তি আবেদন করার যোগ্যতা যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রী/অনার্স পাশ, এছাড়াও মাদ্রাসা হতে সমমান ডিগ্রী প্রাপ্তরাও আবেদন করতে পাবে।
২বছর মেয়াদী এল এল বি কোর্স ।সদ্য অনার্স পাস করা ছাত্রছাত্রীরা ও আবেদন করতে পারবেন।

অ্যাডভোকেট হতে হলে বা আইন পেশায় ঢুকতে হলে প্রথমে আপনাকে এইচএসসি পাসের পর যে কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদে ভর্তি হতে হবে। এখানে আপনাকে চার বছরমেয়াদি এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আর বাংলাদেশের প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের জন্য এলএলবি অনার্স কোর্স চালু আছে। এখানে পড়তে হলে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা।

Read More ল এল বি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

এছাড়া আপনি চার বছর মেয়াদি এলএলবি না করেও আইন পেশায় আসতে পারেন। এ জন্য আপনাকে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজ থেকে অনার্স বা ডিগ্রি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধীনে যে কোনো ল’ কলেজে দু’বছর এলএলবি (পাস) কোর্স করতে হবে। এখানে আপনার খরচ পড়বে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়া যায়।এখানে খরচ ৮০হাজার থেকে ১লাখ টাকা পড়বে

আপনাকে এলএলবি অনার্স শেষে বার কাউন্সিল সনদ গ্রহণ করে সিএমএম জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের জন্য আলাদা আলাদা বারের সনদ গ্রহণ করতে হবে। সনদ পাওয়ার জন্য প্রথমে বার কাউন্সিলের ফরমে আবেদন করতে হবে। এরপর তিন ধাপে তথা এমসিকিউ,লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

আইনজীবী হতে চাইলে এলএলবি বা এলএলবি(অনার্স) অথবা এলএলএম পাশ করেই বাংলাদেশ বার কাউন্সল থেকে সনদপ্রাপ্ত হয়ে যে কোন আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে সরাসরি আইনজীবী হয়ে যেতে পারেন।
ভর্তি ও অন্যান্য নিয়মাবলী

সকল আইন কলেজে ভর্তির জন্য নূন্যতম বিএ / বিএসসি / বি কম অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র /ছাত্রীগণই এল.এল. বি তে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে। এস, এস,সি হতে স্নাতক পর্যন্ত যে কোন একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ প্রয়োজন। এস.এস.সি, এইচ. এস.সি ও ডিগ্রী বা সমমানের পরীক্ষা পাশের মার্কসিটের সত্যায়িত ফটোকপি ২ (দুই)কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ৫(পাঁচ) কপি, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফরমের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

যে কোন বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র-ছাত্রী এল.এল.বি তে ভর্তি হতে পারবে। অফিস চলাকালীন সময়ে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন নেয়া হয়। ছাত্র/ছাত্রীদেরকে কলেজের সকল নিয়ম-কানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিধি বিধান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল আইন-কানুন মেনে চলতে হবে। প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীদের কলেজ টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে এবং ৭৫% ক্লাশে উপস্থিত থাকতে হবে।

এল.এল.বি প্রথম পর্বে ভর্তি =সাধারনত ৭ হতে ১০ হাজার টাকা(কলেজ অনুযায়ী কম বা বেশি হতে পারে, শেষ পর্বে ভর্তি =সাধারনত ৭ হতে ১০ হাজার টাকা(কলেজ অনুযায়ী কম বা বেশি হতে পারে
মাসিক বেতন ১০০ হতে ৫০০/- টাকা (কলেজ অনুযায়ী বেতন কম বা বেশি হতে পারে এবং কলেজ হইতে প্রশংসাপত্র বা ছাড়পত্রের জন্য = ১০০ হতে ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা ফি প্রদান করতে হবে(কলেজ অনুযায়ী কম বা বেশি হতে পারে)।

বাৎসরিক পরীক্ষার ফি বিষয় প্রতি ১০০+ টাকা মাত্র।

LAW COLLEGE LIST UNDER National University of Bangladesh

1 Bogra Law College → Bogra
2 Pirojpur Law College →Pirojpur
3 Bagerhat Law College →Bagerhat
4 Bangabandhu Law College →Chittagong
5 Bangabandhu Law College, Comilla→ 880-81-69668 →Comilla
6 Bangabandhu Law College, Dhaka → Dhaka
7 Bangabandhu Law College, Madaripur →Madaripur
8 Bangladesh Law College →Dhaka
9 Barisal Law College →Barisal
10 Brahmanbaria Law College →Brahmanbaria
11 Capital Law College →Dhaka
12 Central Law College, Khulna → Khulna
13 Central Law College →Dhaka
14 Central Law College, Rajshahi →880-721-750008→ Rajshahi
15 Chandpur Law College →Chandpur
16 Chittagong Law College →Chittagong
17 City Law College → Dhaka
18 City Law College →Khulna
19 Comilla Law College →Comilla
20 Cox’ s Bazar Law College →Cox’s Bazar
21 Dawan Idris Law College →Dhaka
22 Demra Law College →Dhaka
23 Dhaka Law College →Dhaka
24 Dhanmondi Law College → Dhaka
25 Dinajpur Law College, Dinajpur →Dinajpur
26 Faridpur Law College →Faridpur
27 Fatama Law College →Dhaka
28 Feni Law College →Feni
29 Gaibandha Law College →Gaibandha
30 Gazipur Law College →Gazipur
31 Green View Law College →Dhaka
32 Hasham Shurjo Soceity Law College →Barguna
33 Ideal Law College→ 02-9139046, 01817-022303→ Dhaka
34 International Law College →Dhaka
35 Jamalpur Law College → Jamalpur
36 Jan -E- Alom Law College → Dhaka
37 Joypurhat Law College → Joypurhat
38 Khagrachhari Law College→ Khagrachhari
39 khandokar Nurul Hossan Law Acadamy →Manikganj
40 Kurigram Law College →Kurigram
41 Kushtia →Kushtia
42 Lalmonirhat Law College →Lalmonirhat
43 Leepur Law College →Lakshmipur
44 Libarti Law College →Dhaka
45 Magura Law College →Magura
46 Metropoliton Law College →Sylhet
47 Metropoliton Law College →Dhaka
48 Mirpur Law College →02 8055847, 01779-174841,→ Dhaka
49 Mohammadpur Law College →Dhaka
50 Mohanagor Law College → Dhaka
51 Munshiganj Law College →Munshiganj
52 Mymensingh Law College →Mymensingh
53 Naogaon Law College →Naogaon
54 Narayanganj Law College →Narayanganj
55 Narsingdi Law College →Narsingdi
56 National Law College → Gopalganj
57 Nawabgonj Law College → Chapainawabganj
58 Netrakona Law College → Netrakona
59 New Era Law College → Dhaka
60 Noakhali Law College → Noakhali
61 Patuakhali Law College →Patuakhali
62 Rajshahi Law College →Rajshahi
63 Rangamati Law College →Rangamati
64 Rangpur Law College →Rangpur
65 Rupnagor Law College →Dhaka
66 Satkhira Law College →Satkhira
67 Shohid Amin uddin Law College →Pabna
68 Shohid Jiaur Rahman Law College → Jhenaidah
69 Shohid Moshiur Rahman Law College →Khulna
70 Sirajganj Law College →Sirajganj
71 Sylhet Law College →Sylhet
72 Tangail Law College →Tangail
73 Thakurgaon Law College →Thakurgaon

আইন পেশার বিবর্তন
বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। আইন পেশায় আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলের আগে থেকে হিন্দু ও মুসলিম আমলে ব্রাহ্মণ কিংবা পক্ষগণের নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘উকিল’ হিসেবে বিরোধ মীমাংসা পরিচালনা করা হতো। মুসলিম আমলে আইনে বিশেষ জ্ঞান যাঁদের আছে, তাঁরা মামলা পরিচালনা করতেন। তাঁদের বলা হতো মুফতি।
তখন আইনজীবীদের সনদ দেওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। ১৭৭৪ সালে কলকাতায় প্রথম সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হলে আদালত থেকে সনদ নিয়ে আইনজীবী হিসেবে মামলায় অংশ নেওয়া যেত। সে সময় রাজকীয় সনদের ১১ অনুচ্ছেদবলে ইংল্যান্ডের ব্যারিস্টার এবং স্কটল্যান্ডের অ্যাডভোকেটদের আইনজীবী হিসেবে সনদ দেওয়া হতো। ১৭৯৩ সালের রেজুলেশনে সদর দেওয়ানি আদালত কর্তৃক আইনজীবীদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তখন অবশ্য শুধু হিন্দু এবং মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা এই সনদ পেতেন। ১৮৩৩ সালে এই বিধান পরিবর্তন হয় এবং ১৮৪৬ সালে সব ধর্মাবলম্বীর মধ্য থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদের বিধান পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে দেশীয় আইনজীবীদের মামলা পরিচালনা করার অধিকার ছিল না। ১৮৫০ সালে সনদ দেওয়ার জন্য পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮০৬২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের ও বিদেশের সব আইনজীবীই মামলা পরিচালনার সুযোগ পান।
১৮৭৯ থেকে আইনে স্নাতকদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অধীনে শিক্ষানবিশ থেকে এবং পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সনদ নিতে হতো।
১৯২৬ সালে বার কাউন্সিল আইনে ব্যারিস্টার ও উকিলের মধ্যে পার্থক্য দূর করা হয় এবং সবাইকে অ্যাডভোকেটের মর্যাদা দেওয়া হয়। সব অ্যাডভোকেটকে, যাঁরা ব্যারিস্টার ছিলেন না, তাঁদেরও হাইকোর্টে মামলা পরিচালনা করার এখতিয়ার দেওয়া হয়। কিন্তু তখন তাঁদের অ্যাটর্নিদের দ্বারা নিযুক্ত হতে হতো। ঢাকা হাইকোর্টে অবশ্য অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে আইনজীবী নিযুক্ত হতে হতো না। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশে প্রাদেশিক ও সর্বপাকিস্তান বার কাউন্সিল গঠিত হয়। তখন থেকেই আইন পেশার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে প্রাদেশিক বার কাউন্সিলের স্থলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গঠিত হয়।

আইন পেশার ক্ষেত্র
বাংলাদেশে আইন পেশার পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর এর পরিধি আরও বেড়েছে। নিম্ন আদালতে বিচারক হিসেবে কাজের সুযোগ থেকে শুরু করে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিশাল দ্বার এখন উন্মুক্ত। এ ছাড়া আইন বিষয়ে শিক্ষকতারও সুযোগ রয়েছে। আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। বিভিন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওতে মানবাধিকারকর্মী ও প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রটি এখন অনেক বিস্তৃত। প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল ভালো হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষক হিসেবে কাজের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পূর্ণকালীন কিংবা খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করারও সুযোগ রয়েছে। এসবের বাইরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আইন কর্মকর্তা হিসেবেও কাজের অবাধ সুযোগ আছে। বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর আইন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আইন পরামর্শক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ।

আইনজীবীদের কাজের ধরন ও ক্ষেত্র
সনদ পাওয়ার আগে কোনো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর অধীনস্থ হয়ে কিংবা কোনো ল ফার্মে যোগ দিয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করতে কোনো বাধা নেই। আইনজীবী হচ্ছেন মুক্ত পেশার মানুষ। একগাদা নথিপত্র নিয়ে কালো গাউন পরে ছোটাছুটি করা ব্যস্ত আইনজীবীর কাঁধে দায়িত্ব অনেক। নিজের মক্কেলের পক্ষে লড়াইয়ে জিততে হবে তাঁকে। অধিকারবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই সুনাম আর সুখ্যাতি আসবে। আইনজীবী হিসেবে শুরুর দিকটা চ্যালেঞ্জের, একটু কষ্টের। তবে ধৈর্য ধরে এগোলে কোনো বাধা আর বাধা নয়। আইনজীবী হিসেবে কাজের সাফল্য প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না বরং পেশাজীবনে তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও একাগ্রতাই পৌঁছে দেয় সফলতার দুয়ারে।

একজন আইনজীবী আদালতে বিশেষ কোনো বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন। ক্ষেত্র বুঝে এবং নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ওপর নির্ভর করে কোন দিক নিয়ে কাজ করতে হবে। দেওয়ানি ক্ষেত্র অর্থাৎ জমিজমা, পারিবারিক, ক্ষয়ক্ষতি, প্রভৃতি বিষয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। ফৌজদারি ক্ষেত্র অর্থাৎ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ, যেমন— চুরি, ডাকাতি, খুন প্রভৃতি বিষয়সংক্রান্ত আইন অনুশীলনের মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগও রয়েছে। মূলত এ দুটি ক্ষেত্র ছাড়াও পরিবেশ কিংবা অর্থঋণবিষয়ক মামলা, ব্যাংক-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনায়ও পারদর্শী হয়ে ওঠা যায়। অবশ্য একজন তরুণ আইনজীবীকে শুরু থেকে সব দিকেই বিচরণ করতে হয়। নিম্ন আদালতের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্র আরও ব্যাপক। সাংবিধানিক বিষয়, জনস্বার্থবিষয়ক মামলা এবং কোম্পানি বিষয়ে মামলা পরিচালনা সুপ্রিম কোর্টেরই এখতিয়ার রয়েছে। তরুণ আইনজীবী, যাঁরা সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেছেন কিংবা ব্যারিস্টার হয়েছেন, তাঁদের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজের আগ্রহ বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রগুলো বাদে ‘কর আইনজীবী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে এবং মামলা পরিচালনায় কর আইনজীবী হিসেবেও কর আইনজীবী সমিতিতে নাম লেখাতে হয়।

প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিচারব্যবস্থায় জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে কাজ করার সুযোগ আছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে প্রতিবছরই আইনজীবীদের মধ্য থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোতে ভূমিবিষয়ক নানা ধরনের মামলা পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা নিজেদের মামলা পরিচালনার জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন ও গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। শ্রম আদালতে শুধু শ্রমিকদের মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য কাজের সুযোগ আছে। বিভিন্ন বেসরকারি আইনি সহায়তা সংস্থাগুলোর অসহায় ও দরিদ্রদের মামলা পরিচালনার জন্য সংস্থার আইনজীবী হিসেবে কাজের সুযোগ আছে।

বাণিজ্যিক সংস্থায় আইনজীবীদের কদর বাড়ছে দিন দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন পরামর্শক হিসেবে কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি আইনজীবী ও নোটারি আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করায় সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ল ফার্মে অ্যাসোসিয়েট আইনজীবী হিসেবে চাকরি করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইনজীবীদের আইন পেশার পাশাপাশি আইন-সাংবাদিকতা করারও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার আদালত প্রতিবেদক হিসেবে আইনজীবীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া দৈনিক পত্রিকার আইনবিষয়ক পাতা সম্পাদনা ও প্রদায়ক হিসেবে লেখালেখি করে নিজের সৃজনশীলতা প্রয়োগের ক্ষেত্র তো রয়েছেই।
উচ্চ আদালতে ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে হওয়া যায় বিচারপতি। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলে কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেল হয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানজনক সুযোগও একমাত্র আইন পেশাতেই রয়েছে।

বিচারক হওয়ার সুযোগ
বিচার বিভাগ পৃথক হবার পরে আইনে ডিগ্রিধারীদের বিচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিচারক হওয়ার প্রথম পদ হচ্ছে সহকারি জজ এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। দুটি পদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সহকারী জজরা দেওয়ানি-সংক্রান্ত বিচার করেন আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা করেন ফৌজদারি-সংক্রান্ত বিচার। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের আগে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পিএসসি সহকারী জজ নিয়োগের কাজ করত। এখন এ দায়িত্ব বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের। সম্প্রতি আরও ১০১ সহকারী জজ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।

আইন পেশার বাইরে
আইনে পড়াশোনা শেষ করে আইনজীবী কিংবা আইনসংশ্লিষ্ট পেশা ছাড়াও অন্যান্য যেকোনো পেশায় জড়িত হতে পারেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগ ছাড়াও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন একজন আইনে ডিগ্রি প্রাপ্ত ব্যক্তি। এ ছাড়া যেকোনো পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে কোনো বাধা নেই। তবে আইনজীবী হিসেবে সনদ নিয়ে থাকলে এবং আদালতে নিয়মিত আইন পেশায় না থাকলে কিংবা অন্য পেশায় সরাসরি জড়িত থাকলে তাঁর সনদ বাতিল হতে পারে বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী।

Related Content